ফ্রান্সের ইউরোপীয় মন্ত্রী অ্যামিলি ডি মোনচালিন বলেছেন, ইরানি শীর্ষ কমান্ডার হত্যাকাণ্ড বিশ্বকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। কাজেই মধ্যপ্রাচ্যের গভীর সংঘাত কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।শুক্রবার আরটিএল রেডিওকে তিনি বলেন, আরেক বিপজ্জনক পৃথিবীতে আমাদের ঘুম ভেঙেছে। বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে শিগগিরই প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন কথা বলবেন।

শুক্রবার মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকি কমান্ডার আবু মাহদি আল মুহান্দিসকে হত্যার কথা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে মধ্যপ্রাচ্যে দুই শক্তির মধ্যে ছায়াযুদ্ধ নতুন মাত্রা পেয়েছে।

মোনচালিন বলেন, এমন অভিযানের ভেতর উত্তেজনা আরও বাড়ছে বলে আমরা দেখতে পাচ্ছি। এসব কিছুর ওপর আমরা স্থিতিশীলতা ও উত্তেজনা হ্রাসই চেয়ে আসছি।তিনি আরও জানান, ফ্রান্সের সব চেষ্টা, বিশ্বের সব অংশের উদ্দেশ্য হচ্ছে শাস্তি ও স্থিতিশীরতার পরিস্থিতি তৈরি করা। আমাদের ভূমিকা কাজে আসেনি, কিন্তু আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবো।

এদিকে ইরানের আল-কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা উসকে দেবে বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া।দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্ধৃতিতে সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্টি ও তাস জানিয়েছে, সোলাইমানিকে হত্যা পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে।এতে বলা হয়, পরম বিশ্বস্ততার সঙ্গে সোলাইমানি ইরানিদের স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করেছেন। আমরা ইরানি জনগণের প্রতি গভীর শোক জানাচ্ছি।

এদিকে মার্কিন হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ইরাকের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদেল মাহদি। এই হামলাকে আগ্রাসন আখ্যা দিয়ে এতে বিপর্যয়কর যুদ্ধ লেগে যেতে পারে বলে জানান তিনি।এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, একজন ইরাকি সামরিক কমান্ডারকে হত্যা ইরাকি সরকার ও জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন। এতে ইরাকি মাটিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতির শর্তের গর্হিত লঙ্ঘন ঘটেছে বলেও জানান ইরাকি প্রধানমন্ত্রী।

ইরাকি কমান্ডার মুহান্দিস ছিলেন আধা সামরিক বাহিনী হাশেদ আল-শাবির উপপ্রধান।এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল কাসেম সুলাইমানিকে যারা হত্যা করেছে, সেই অপরাধীদের জন্য ভয়াবহপ্রতিশোধ অপেক্ষা করছে।

তার মৃত্যুতে ইরানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন খবর দিয়েছে।তিনি বলেন, সব শত্রুদেরই জেনে রাখা উচিত, প্রতিরোধ বাহিনীর জিহাদ দ্বিগুণ উদ্যমে অগ্রসর হবে; অবশ্যই পবিত্র এ যুদ্ধে যোদ্ধাদের জন্য নিশ্চিত বিজয় অপেক্ষা করছে।মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এ প্রতিরোধ বাহিনীর বিকাশ এবং ইরানের প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে মেজর জেনারেল সোলেমানিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবেই বিবেচনা করা হতো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here