বাংলাদেশ-ভারত সী’মান্তে বিএস-এফের গু’লিতে বাংলাদেশিদের হ’ত্যা বন্ধ করতে হলে ভারতীয় সী’মান্তর’ক্ষীদের দোষ দিয়ে লাভ নেই বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। এক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদেরই সতর্ক হতে হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, আসলে আমাদের চরিত্র যদি ভালো না হয়, পরের দোষ দিয়ে লাভ নেই।

নওগাঁ জে’লার পোরশা সী’মান্তে গত ২২ জানুয়ারি ভারতীয় সী’মান্তর’ক্ষীদের হাতে তিন বাংলাদেশি নাগরিক নি’হত হয়। যে সী’মান্তে এই ঘটনা ঘটেছে সেই এলাকার সংসদ সদস্য খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। রাজশাহীর পবা উপজে’লায় এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে সী’মান্তে বিএসএফের গু’লিতে তার নির্বাচনি এলাকার তিন ব্যক্তির মৃ’ত্যুর প্রসঙ্গ তোলেন সাংবাদিকরা।

জবাবে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, এখানে দোষ বাংলাদেশি নাগরিকদেরই, সুতরাং সরকারের কিছুই করণীয় নেই। তিনি বলেন, আমরা গরুর বিট খুলতে দেব না।আমাদের উপজে’লায় রেজুলেশন আছে, বিজিবির রেজুলেশন আছে, জে’লা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ের রেজুলেশন আছে। তার পরেও কেউ যদি জোর করে কাঁটাতারের বেড়া কে’টে গরু আনতে যায় আর ভারতীয় অংশে গু’লি খেয়ে মা’রা যায়, তার দায়দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকার নেবে না।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১১ বছরে প্রায় সাড়ে ৩০০ বাংলাদেশি নাগরিককে সী’মান্তে গু’লি করে হ’ত্যা করেছে ভারতীয় সী’মান্তর’ক্ষী বাহিনী বিএসএফ। অথচ উভয়দেশ গত ১০ বছর যাবত্ পরস্পরকে সবচেয়ে ভালো বন্ধু হিসেবে বর্ণনা করছে। চলতি বছরের প্রথম ২৫ দিনেই প্রায় ১০ জন বাংলাদেশি বিএসএফের হাতে নি’হত হয়।

বাংলাদেশের ভেতরে অনেকেই সমালোচনা করেন যে, সীমান্ত হ’ত্যার বি’রুদ্ধে সরকারের যতটা সরব হওয়া উচিত, ততটা তারা হচ্ছে না। উলটা বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিংবা সরকারি কর্মকর্তারা এমন বক্তব্য দিচ্ছেন, যাতে বাংলাদেশিদের দোষ বেশি—এমনটাই তুলে ধরা হচ্ছে বলে অ’ভিযোগ রয়েছে।

খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে মা’নবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন বলেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, কোনোভাবেই সী’মান্তে গু’লি করে হ’ত্যার বি’ষয়টি আইন অনুযায়ী যুক্তিসংগত নয়। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে যদি এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়, তখন ধরেই নিতে হয় যে, আমাদের পররাষ্ট্রনীতির দুর্বলতার দিক রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here